ত্বকের রঙ অনুযায়ী হেয়ার কালার বেছে নেবার বিস্তারিত নিয়ম জানুন

নিজেকে নতুনভাবে সাজাতে অনেকেই হেয়ার কালার করার কথা ভাবছেন। আপনারও হয়তো তেমনই ইচ্ছা। কিন্তু, আপনাকে কোন্ রং মানাবে তা জানেন কি? আগে জানুন আপনার ত্বকের রং (Skin Tone) কী, তারপর তার সঙ্গে মানানসই হেয়ার কালার বেছে নিন। আসলে, মেলানিনের প্রভাবে ত্বক, চুল ও চোখের রঙে তারতম্য দেখা যায়। শুধু তাই নয়, কোন্ আবহাওয়ায় বসবাস করা মানুষের ত্বকের রং কেমন হবে, তাও ঠিক করে মেলানিন।

আর, ত্বকের রঙের সঙ্গে হেয়ার কালার মানানসই না হলে দেখতে খুব খারাপ লাগে। তাই, খুব সাবধানে হেয়ার কালার বাছুন। জেনে নিন, ত্বকের রঙের সঙ্গে কোন্ কোন্ হেয়ার কালার মানায়-

ত্বকের রং(Skin Tone) চিনবেন কীভাবে?

সাধারণত, ত্বকের রং তিন ধরনের হয়- ওয়ার্ম টোন, কুল টোন ও অলিভ টোন। অলিভ টোনড ত্বক হল এমন ধরনের ত্বক যার রং ওয়ার্ম ও কুলের মাঝামাঝি। বাকি দু’টি ত্বকের রং চিনতে হলে, করতে পারেন একটা সহজ পরীক্ষা। হালকা রোদে হাতের কবজি রেখে দেখুন শিরাগুলির রং নীল না সবুজ। যদি নীল হয়, তবে আপনি কুল টোনড। আর, যদি সবুজ হয়, তবে আপনি ওয়ার্ম টোনড। নীল না সবুজ তা বুঝতে সমস্যা হওয়ার অর্থ আপনি অলিভ টোনড।

আরও সহজে ত্বকের রং চান? তবে, নজর রাখুন রোদে আপনার ত্বক লালচে হয়ে যায় কি না। যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে আপনি কুল টোনড। আর যদি ত্বকে ট্যান দেখা যায়, তবে আপনি ওয়ার্ম টোনড।

হেয়ার কালার করার আগে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন-

– চুলের স্বাভাবিক রঙের থেকে এক বা দু’শেড হালকা অথবা গাঢ় হেয়ার কালার বাছুন।

– চোখের রঙের সঙ্গে মানানসই এমন হেয়ার কালার বাছতে পারেন।

– ওয়ার্ম টোনের সঙ্গে কপার বা তামাটে রং মানায়। আবার তেমনই কুল টোনের সঙ্গে মানায় ওয়ালনাট ব্রাউনের মতো রং।

কয়েকটি হেয়ার কালার-

ন্যাচরাল কালার

লাল ও ব্রাউনের নানারকম শেড ত্বকে সবথেকে ভালো মানায়। উপমহাদেশের বেশিরভাগ মানুষই উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। এই রঙের সঙ্গে লাল বা ব্রাউনের শেডগুলি দেখতে ভালো লাগে। আর যদি আপনার গায়ের রং ফর্সা হয়, তবে সোনালি বা ছাই রং কখনই করবেন না। রোদে ত্বক লালচে হওয়ার প্রবণতা থাকলে লাল হেয়ার কালার এড়িয়ে চলুন।

বার্গান্ডি

বাদামি রঙের পোশাক তেমন পছন্দ না করলেও, বাদামি হেয়ার কালার অনেকেরই পছন্দ। তাই আমাদের ত্বকে মানায়ও ভালো। তারমধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় রং হল বার্গান্ডি। তাছাড়া, চকোলেট ব্রাউন, অ্যাশ ব্রাউন, মেহগনি বা চেস্টনাট রঙেরও চাহিদা আছে।

লাল

লাল রঙেরও নানারকম শেড দেখা যায়। কিন্তু, এই শেডগুলি বাছার সময় খুব সাবধান থাকতে হয়। যদি ফর্সা হন, তবে ট্রাই করতেই পারেন হালকা লাল বা তামাটে লাল। অলিভ স্কিন টোনের জন্য নীলচে লাল রংগুলি ভালো মানায়।

ফাঙ্কি কালার

এছাড়াও, আজকাল নীল, সবুজ, বেগুনি বা গোলাপির মতো রংও অনেকে বেছে নিচ্ছেন। পুরো চুলে এই রং করার ঝুঁকি না নিয়ে হাইলাইটার হিসাবে ব্যবহার করুন।

ওয়ার্ম টোনের সঙ্গে মানানসই কয়েকটি হেয়ার কালার-

– চকোলেট, চেস্টনাট বা গাঢ় বাদামি ব্যবহার করুন বেস হিসাবে।

– তারপর থাক গাঢ় গোল্ডেন ব্রাউন রং।

– হাইলাইট করুন ওয়ার্ম গোল্ড , লাল বা তামাটে লাল দিয়ে।

– নীল, সাদা, বেগুনি বা জেট ব্ল্যাক রং এড়িয়ে চলুন।

কুল টোনের সঙ্গে মানানসই কয়েকটি হেয়ার কালার-

– বেস হিসাবে বেছে নিন হালকা লাল, বার্গান্ডি বা বোরডক্সের মতো রং।

– তারপর লাগাতে পারেন গাঢ় বাদামি, লাল বা হালকা বাদামি।

– হাইলাইট করুন অ্যাশ ব্রাউন বা সোনালির নানা শেড দিয়ে।

– গাঢ় সোনালি বা ব্রোঞ্জ জাতীয় রং এড়িয়ে চলুন।

আরও পড়ুনঃ

মহিলাদের চওড়া কোমর দক্ষিণে আর উত্তরে মোটা পেট
ছেলেদের দাঁড়ি রাখার ৬ টি উপকারিতা
নবজাতক দেখতে গেলে অবশ্যই যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন